সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

পানি সরবরাহে সংকট : নাগরিক সেবায় জবাবদিহি ও বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ০৪-০৬-২০২৬ ১০:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৪-০৬-২০২৬ ১০:০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
পানি সরবরাহে সংকট : নাগরিক সেবায় জবাবদিহি ও বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন
সুনামগঞ্জ পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ছয় শতাধিক গ্রাহকের পানি পাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নগর সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। পানি মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং একটি অপরিহার্য নাগরিক সেবা। সেই সেবা কয়েকদিন ধরে ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, হাছননগর এলাকার পানি শোধনাগারের মোটরের কয়েল পুড়ে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। যান্ত্রিক ত্রুটি যে কোনো প্রতিষ্ঠানে ঘটতে পারে, এটি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবার ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা কেন প্রস্তুত ছিল না? একটি মোটরের ত্রুটিতে যদি শত শত পরিবার পানিবঞ্চিত হয়, তাহলে তা পরিকল্পনার ঘাটতিকেই নির্দেশ করে। ভুক্তভোগী নাগরিকদের অভিযোগ আরও উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, ঈদের পর থেকেই পানি সরবরাহে সমস্যা ছিল, অথচ কর্তৃপক্ষ সময়মতো কার্যকরভাবে বিষয়টি জানায়নি। নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে সেবা ব্যাহত হলে দ্রুত জনগণকে অবহিত করা এবং সম্ভাব্য সমাধানের সময়সীমা জানানো কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আধুনিক সময়ে শুধু মাইকিংয়ের ওপর নির্ভর না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, এসএমএস কিংবা অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে জনগণকে দ্রুত তথ্য দেওয়া যেতে পারে। সুনামগঞ্জ পৌর এলাকায় প্রায় দুই হাজার পানির গ্রাহক রয়েছেন। তাদের একটি বড় অংশ হাছননগর কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাকআপ মোটর, বিকল্প বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়মিত তদারকি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোও প্রয়োজন। আমরা আশা করি, পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যার সমাধান করবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করবে। তবে শুধু তা-ই যথেষ্ট নয়। ভবিষ্যতে যেন একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শত শত নাগরিককে এমন দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সে জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নাগরিকদের করের অর্থে পরিচালিত সেবার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহি এবং পূর্বপ্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। বিশুদ্ধ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা পৌরসভার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক, দক্ষ ও দূরদর্শী ভূমিকা প্রত্যাশা করে সুনামগঞ্জবাসী।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স